হনুমান চালিশা বাংলা অর্থ (Hanuman Chalisa Meaning in Bengali)

হনুমান চালিশা লিরিক্স, বাংলা অনুবাদ সহ

হনুমান চালিশার প্রতিটি দোহা আর চৌপাই নিচে বাংলা অক্ষরে দেওয়া আছে। প্রতিটির নিচে সহজ বাংলায় তার অর্থ, সঙ্গে একটা ছোট ব্যাখ্যা।

এই অর্থ আমরা নিজেদের ভাষায়, সহজ করে লিখেছি। কয়েকটা চৌপাইয়ের মানে পণ্ডিতরা অন্যভাবেও করেন। আরও গভীরভাবে জানতে চাইলে জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্যের “মহাবীরী ব্যাখ্যা” (হিন্দিতে) জাতীয় বই পড়ুন।

শুধু চালিশাটুকু পড়তে বা তার PDF ডাউনলোড করতে হনুমান চালিশা বাংলায় পেজটা দেখুন। প্রতিটি শব্দের আলাদা মানে আছে শব্দার্থের পেজে (ইংরেজিতে)। ইংরেজিতে অর্থ চাইলে ইংরেজি অর্থের পেজ দেখুন। চালিশা কীভাবে লেখা হল, তা পড়তে পারেন ইতিহাসের পেজে (ইংরেজিতে)।

শুরুর দোহা · চৌপাই 1 থেকে 10 · 11 থেকে 20 · 21 থেকে 30 · 31 থেকে 40 · শেষ দোহা · PDF · প্রশ্ন-উত্তর

শুরুর দোহা

শ্রীগুরু চরন সরোজ রজ নিজ মনু মুকুরু সুধারি।
বরনউঁ রঘুবর বিমল জসু জো দায়কু ফল চারি॥

অর্থ: শ্রীগুরুর চরণকমলের ধুলো দিয়ে আমি আমার মনের আয়না পরিষ্কার করে নিই। তারপর শ্রীরঘুবরের (শ্রীরামের) নির্মল যশ গাই, যে যশ ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ, এই চারটি ফলই দেয়।

ব্যাখ্যা: তুলসীদাস শুরু করেন গুরুকে প্রণাম করে। মনে অহংকার আর অজ্ঞানের ধুলো জমে থাকলে ভগবানের যশ ঠিকমতো গাওয়া যায় না। গুরুর কৃপাই সেই ধুলো মুছে দেয়। হনুমান চালিশা শুরু হয় শ্রীরামের যশ দিয়ে, কারণ হনুমানজির সব মহিমা রামভক্তিতেই।

বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুমিরৌং পবন-কুমার।
বল বুধি বিদ্যা দেহু মোহিং, হরহু কলেস বিকার॥

অর্থ: নিজেকে বুদ্ধিহীন জেনে আমি পবনপুত্র হনুমানকে স্মরণ করি। হে হনুমান, আমাকে বল, বুদ্ধি আর বিদ্যা দাও, আর আমার দুঃখ-কষ্ট (কলেস) ও মনের দোষ (বিকার) দূর করো।

ব্যাখ্যা: ভক্ত এখানে সরল মনে মেনে নিচ্ছেন যে শুধু নিজের বুদ্ধির জোরে ভগবানের কাছে পৌঁছনো যায় না। তাই তিনি তিনটি জিনিস চাইছেন: বল (শরীর আর মনের জোর), বুদ্ধি (ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা) আর বিদ্যা (জ্ঞান)। “কলেস” মানে বাইরে থেকে আসা দুঃখ। “বিকার” মানে এখানে মনের ভেতরের দোষ, যেমন কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ।

চৌপাই 1 থেকে 10

জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর।
জয় কপীস তিহুঁ লোক উজাগর॥

অর্থ: হে হনুমান, তোমার জয় হোক। তুমি জ্ঞান আর গুণের সাগর। হে বানররাজ (কপীস), তোমার জয় হোক। তিন লোকে তোমার যশ উজ্জ্বল হয়ে আছে।

ব্যাখ্যা: চালিশার প্রথম চৌপাই শুরুই হয় জয়ধ্বনি দিয়ে। হনুমানজির জ্ঞান আর গুণের কোনো সীমা নেই, তাই তাঁকে “সাগর” বলা হয়েছে। “তিহুঁ লোক” মানে স্বর্গ, মর্ত্য আর পাতাল, এই তিন লোকেই তাঁর যশ ছড়িয়ে আছে।

রাম দূত অতুলিত বল ধামা।
অঞ্জনি-পুত্র পবনসুত নামা॥

অর্থ: তুমি শ্রীরামের দূত, তোমার বলের কোনো তুলনা নেই। লোকে তোমাকে অঞ্জনীপুত্র (অঞ্জনি-পুত্র) আর পবনপুত্র (পবনসুত) নামে চেনে।

ব্যাখ্যা: হনুমানজির প্রথম পরিচয় “রাম দূত”, অর্থাৎ শ্রীরামের দূত: তাঁর সব বল শ্রীরামের কাজের জন্য। মা অঞ্জনার ছেলে বলে তিনি অঞ্জনীপুত্র, আর পবনদেবের ছেলে বলে পবনপুত্র।

মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।
কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী॥

অর্থ: হে মহাবীর, তুমি খুব পরাক্রমী, তোমার শরীর বজ্রের মতো কঠিন। তুমি কুবুদ্ধি (কুমতি) দূর করো, আর যাদের সুবুদ্ধি (সুমতি) আছে, তুমি তাদের সঙ্গী।

ব্যাখ্যা: “বজরঙ্গী” কথাটা এসেছে “বজ্র” আর “অঙ্গ” থেকে: যাঁর অঙ্গ বজ্রের মতো কঠিন। এখানে তুলসীদাস হনুমানজির শক্তির সঙ্গে তাঁর বুদ্ধির কথাও বলছেন: তিনি মন থেকে ভুল চিন্তা সরিয়ে ঠিক পথ দেখান।

কঞ্চন বরন বিরাজ সুবেসা।
কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেসা॥

অর্থ: তোমার গায়ের রং সোনার মতো, সুন্দর বেশে তুমি শোভা পাও। কানে কুণ্ডল, মাথায় কোঁকড়া চুল।

ব্যাখ্যা: পাঠ করার সময় হনুমানজির এই রূপ যাতে মনের চোখে ভেসে ওঠে, তাই তুলসীদাস এখানে তাঁর রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। “কঞ্চন বরন” মানে সোনার মতো ঝলমলে রং।

হাথ বজ্র ঔর ধ্বজা বিরাজৈ।
কাঁধে মূঁজ জনেঊ সাজৈ॥

অর্থ: তোমার হাতে বজ্র আর পতাকা শোভা পায়, কাঁধে মূঁজ ঘাসের পৈতে।

ব্যাখ্যা: বজ্র শক্তির চিহ্ন, পতাকা জয়ের। মূঁজ (এক রকমের ঘাস) দিয়ে তৈরি পৈতে হনুমানজির সংযম আর পবিত্র জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয়।

সঙ্কর সুবন কেসরীনন্দন।
তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥

অর্থ: তুমি শিবের অংশ, কেশরীর ছেলে। তোমার তেজ আর প্রতাপ বিরাট, সারা জগৎ তোমাকে প্রণাম করে।

ব্যাখ্যা: “সঙ্কর সুবন” কথাটায় হনুমানজিকে শিবের অংশ বলা হয়েছে। বানররাজ কেশরী তাঁর বাবা, তাই তাঁকে কেশরীনন্দনও বলা হয়।

বিদ্যাবান গুনী অতি চাতুর।
রাম কাজ করিবে কো আতুর॥

অর্থ: তুমি বিদ্বান, গুণী আর খুব বুদ্ধিমান, শ্রীরামের কাজ করতে সবসময় আগ্রহী।

ব্যাখ্যা: হনুমানজির সব বিদ্যা আর বুদ্ধি একটাই কাজে লাগে: রামের কাজে। জ্ঞান আর গুণ ভালো কাজে লাগলে তবেই তার দাম। এখানে “চাতুর” মানে বুদ্ধিমান, আর “আতুর” মানে আগ্রহী, অসুস্থ নয়।

প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া।
রাম লষন সীতা মন বসিয়া॥

অর্থ: প্রভু শ্রীরামের কথা শুনতে তুমি খুব ভালোবাসো। শ্রীরাম, লক্ষ্মণ আর মা সীতা তোমার মনে বাস করেন।

ব্যাখ্যা: রামকথা শুনতে হনুমানজির খুব আনন্দ। লোকে বিশ্বাস করে, যেখানে রামকথা হয়, সেখানে তিনি শুনতে আসেন। “লষন” লক্ষ্মণেরই নাম; অনেক বইয়ে নামটা “লখন” ছাপা থাকে।

সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়হিং দিখাবা।
বিকট রূপ ধরি লঙ্ক জরাবা॥

অর্থ: ছোট (সূক্ষ্ম) রূপ ধরে তুমি মা সীতাকে দেখা দিয়েছিলে, আর ভয়ংকর (বিকট) রূপ ধরে লঙ্কা পুড়িয়েছিলে।

ব্যাখ্যা: অশোকবনে মা সীতা যাতে ভয় না পান, তাই হনুমানজি ছোট রূপে গাছের পাতার আড়ালে লুকিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। পরে বিশাল রূপ ধরে লঙ্কায় আগুন লাগান। যখন যেমন দরকার, তিনি তেমন রূপ নেন।

ভীম রূপ ধরি অসুর সঁহারে।
রামচন্দ্র কে কাজ সঁবারে॥

অর্থ: বিশাল (ভীম) রূপ ধরে তুমি অসুরদের সংহার করেছিলে, শ্রীরামচন্দ্রের কাজ সুন্দরভাবে শেষ করেছিলে।

ব্যাখ্যা: লঙ্কার যুদ্ধে হনুমানজি অনেক রাক্ষস মেরেছিলেন। এখানেও তাঁর সব বীরত্ব নিজের জন্য নয়, শ্রীরামের কাজের জন্য।

চৌপাই 11 থেকে 20

লায় সজীবন লখন জিয়ায়ে।
শ্রীরঘুবীর হরষি উর লায়ে॥

অর্থ: সঞ্জীবনী এনে তুমি লক্ষ্মণের প্রাণ বাঁচিয়েছিলে। তাই দেখে খুশি হয়ে শ্রীরঘুবীর (শ্রীরাম) তোমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।

ব্যাখ্যা: যুদ্ধে মেঘনাদের শক্তিশেল লেগে লক্ষ্মণ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সঞ্জীবনী আনতে হনুমানজি দ্রোণগিরি পর্বতে যান, আর কোন গাছটা সঞ্জীবনী তা চিনতে না পেরে এক রাতের মধ্যেই গোটা পাহাড়টা তুলে নিয়ে আসেন। “সজীবন” মানে এই সঞ্জীবনী।

রঘুপতি কীন্হী বহুত বড়াঈ।
তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভাঈ॥

অর্থ: শ্রীরঘুপতি (শ্রীরাম) তোমার অনেক প্রশংসা করে বললেন: তুমি আমার কাছে ভরতের মতোই প্রিয় ভাই।

ব্যাখ্যা: শ্রীরামের কাছে ভরত ছিলেন সবচেয়ে প্রিয়। হনুমানজিকে ভরতের মতো প্রিয় বলায় বোঝা যায়, শ্রীরাম তাঁকে কতটা ভালোবাসতেন।

সহস বদন তুম্হরো জস গাবৈং।
অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈং॥

অর্থ: “হাজার মুখের শেষনাগ তোমার যশ গায়”, এই বলে শ্রীপতি (শ্রীরাম) তোমাকে জড়িয়ে ধরেন।

ব্যাখ্যা: বলা হয়, শেষনাগের হাজারটি মুখ। শ্রীরাম বলেন, হনুমানের যশ এত বড় যে কেবল হাজার মুখের শেষনাগই তা গাইতে পারেন; এই বলে তিনি ভালোবেসে হনুমানজিকে জড়িয়ে ধরেন। “শ্রীপতি” মানে শ্রীর (মা সীতার) স্বামী।

সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীসা।
নারদ সারদ সহিত অহীসা॥

অর্থ: সনক প্রমুখ ঋষি, ব্রহ্মা প্রমুখ দেবতা, বড় বড় মুনি, নারদ, সরস্বতী আর শেষনাগও তোমার যশ গান।

ব্যাখ্যা: এই চৌপাই আর পরেরটাও শ্রীরামেরই মুখের কথা: ঋষি, দেবতা, মুনি সবাই হনুমানজির যশ গান। “সারদ” মানে সরস্বতী, আর “অহীসা” মানে নাগরাজ শেষনাগ।

জম কুবের দিগপাল জহাঁ তে।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাঁ তে॥

অর্থ: যম, কুবের আর দিকপালরা (দশ দিকের রক্ষক) তোমার যশ গান। তাহলে কবি আর পণ্ডিতরা কী করে তা পুরোপুরি বলবেন?

ব্যাখ্যা: এই তিনটি চৌপাই মিলে একটাই কথা বলে: হনুমানজির যশের শেষ নেই। দেবতারাই যখন তা গান, তখন কোনো কবি তা পুরোটা বলতে পারেন না। “কোবিদ” মানে পণ্ডিত।

তুম উপকার সুগ্রীবহিং কীন্হা।
রাম মিলায় রাজ পদ দীন্হা॥

অর্থ: তুমি সুগ্রীবের বড় উপকার করেছিলে: তাঁকে শ্রীরামের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে রাজসিংহাসন পাইয়ে দিয়েছিলে।

ব্যাখ্যা: সুগ্রীব তখন বালির ভয়ে ঋষ্যমূক পর্বতে থাকতেন; হনুমানজিই শ্রীরাম আর লক্ষ্মণের সঙ্গে তাঁর আলাপ করিয়ে দেন। শ্রীরাম বালিকে বধ করে সুগ্রীবকে কিষ্কিন্ধ্যার রাজা করেন।

তুম্হরো মন্ত্র বিভীষন মানা।
লঙ্কেস্বর ভএ সব জগ জানা॥

অর্থ: বিভীষণ তোমার পরামর্শ (মন্ত্র) মেনে লঙ্কার রাজা হয়েছিলেন, সারা জগৎ তা জানে।

ব্যাখ্যা: লঙ্কায় হনুমানজি বিভীষণের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, আর তাঁর কথায় বিভীষণ শ্রীরামের শরণ নেওয়ার সাহস পান। রামের শরণে এসে বিভীষণ লঙ্কার রাজা হন। এখানে “মন্ত্র” মানে পরামর্শ।

জুগ সহস্র জোজন পর ভানূ।
লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥

অর্থ: সূর্য কত দূরে (জুগ সহস্র জোজন), তবু মিষ্টি ফল ভেবে তুমি তাকে গিলে ফেলেছিলে।

ব্যাখ্যা: এটা হনুমানজির ছোটবেলার গল্প: সকালের লাল সূর্যকে ফল ভেবে তিনি খেতে আকাশে উড়ে যান। “জুগ সহস্র জোজন” দিয়ে বোঝানো হয়েছে, সূর্য অনেক দূরে। কেউ কেউ এই সংখ্যাগুলো গুণ করে দেখান, ফল দাঁড়ায় সূর্যের আসল দূরত্বের কাছাকাছি; এ নিয়ে নিচে প্রশ্নে আরও বলা আছে।

প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহীং।
জলধি লাঁঘি গয়ে অচরজ নাহীং॥

অর্থ: প্রভু শ্রীরামের আংটি মুখে রেখে তুমি সমুদ্র পার হয়েছিলে, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

ব্যাখ্যা: হনুমানজি যখন মা সীতার খোঁজে যান, শ্রীরাম তাঁকে চিহ্ন হিসেবে নিজের আংটিটি দেন; তাতে রামের নাম লেখা ছিল। তুলসীদাস বলছেন, রামনাম সঙ্গে থাকলে শত যোজন চওড়া সমুদ্র পেরোনো আশ্চর্য কিছু নয়।

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে।
সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে॥

অর্থ: জগতে যত কঠিন কাজ আছে, তোমার কৃপায় সব সহজ হয়ে যায়।

ব্যাখ্যা: কঠিন সময়ে ভক্তরা হনুমানজিকে স্মরণ করেন, কারণ তাঁর কৃপার ভরসা মনে সাহস আনে, আর কঠিন কাজও সহজ মনে হয়। এ ভরসার কথা, নিজের চেষ্টা ছেড়ে দেওয়ার কথা নয়।

চৌপাই 21 থেকে 30

রাম দুআরে তুম রখবারে।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥

অর্থ: তুমি শ্রীরামের দ্বাররক্ষী। তোমার অনুমতি ছাড়া সেখানে কেউ ঢুকতে পারে না।

ব্যাখ্যা: অর্থাৎ, শ্রীরামের কাছে পৌঁছতে হলে আগে হনুমানজির কাছে যেতে হয়। তাই রামভক্তরা আগে হনুমানজিকে স্মরণ করেন।

সব সুখ লহৈ তুম্হারী সরনা।
তুম রচ্ছক কাহূ কো ডর না॥

অর্থ: যাঁরা তোমার শরণে আসেন, তাঁরা সব সুখ পান। তুমি রক্ষক থাকলে কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই।

ব্যাখ্যা: “রচ্ছক” মানে রক্ষক। শরণে আসা মানে পুরোপুরি ভরসা করা, আর এমন ভরসা মন থেকে ভয় দূর করে।

আপন তেজ সম্হারো আপৈ।
তীনোং লোক হাঁক তেং কাঁপৈ॥

অর্থ: নিজের তেজ (শক্তি) তুমি নিজেই সামলাতে পারো। তোমার হুংকারে (হাঁক) তিন লোক কেঁপে ওঠে।

ব্যাখ্যা: হনুমানজির শক্তি এত বড় যে আর কেউ তা আটকাতে পারে না। শোনা যায়, ঋষিদের শাপে তিনি নিজের শক্তির কথা ভুলে ছিলেন; সমুদ্র পার হওয়ার আগে জাম্বুবান তাঁকে তা মনে করিয়ে দেন। তাই কোনো কোনো পণ্ডিত “সম্হারো” কথাটার মানে “স্মরণ করা” বলেও ধরেন।

ভূত পিসাচ নিকট নহিং আবৈ।
মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥

অর্থ: যখন মহাবীর হনুমানের নাম নেওয়া হয়, তখন ভূত-পিশাচ কাছে আসে না।

ব্যাখ্যা: ভক্তদের বিশ্বাস, হনুমানজির নাম ভয় দূর করে। তাই অন্ধকারে বা একা থাকলে ভয় পেলে লোকে হনুমান চালিশা পড়ে: নাম নিলে মনে সাহস আসে।

নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা।
জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥

অর্থ: বীর হনুমানের নাম নিরন্তর জপ করলে রোগ সারে, সব কষ্ট দূর হয়।

ব্যাখ্যা: এ হল ভক্তদের বিশ্বাসের কথা। জপে মন শান্ত আর শক্ত হয়, অসুখের সময়েও ধৈর্য আসে। অসুখ হলে ডাক্তারের পরামর্শ আর চিকিৎসাও সমান জরুরি; জপ চলুক তার পাশাপাশি, তার বদলে নয়।

সঙ্কট তেং হনুমান ছুড়াবৈ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥

অর্থ: যাঁরা মন, কাজ আর কথা দিয়ে হনুমানজির ধ্যান করেন, তিনি তাঁদের সংকট থেকে উদ্ধার করেন।

ব্যাখ্যা: “মন ক্রম বচন” কথাটা খেয়াল করুন: সত্যিকারের ভক্তি থাকে চিন্তায়, কাজে আর কথায়, তিনটিতেই। শুধু কথাগুলো আওড়ালে চলবে না, রোজকার জীবনেও সেই ভাব থাকা চাই।

সব পর রাম তপস্বী রাজা।
তিন কে কাজ সকল তুম সাজা॥

অর্থ: তপস্বী রাজা শ্রীরামই সবার শ্রেষ্ঠ, আর তাঁর সব কাজ তুমিই করে দিয়েছ।

ব্যাখ্যা: রাজা হয়েও শ্রীরাম তপস্বীর মতো বনে থেকেছেন। এমন শ্রেষ্ঠ প্রভুর কাজ হনুমানজি করে দিয়েছেন: মা সীতার খোঁজ, সঞ্জীবনী আনা আর লঙ্কার যুদ্ধ।

ঔর মনোরথ জো কোই লাবৈ।
সোই অমিত জীবন ফল পাবৈ॥

অর্থ: যে কোনো মনোবাসনা (মনোরথ) নিয়ে যিনি তোমার কাছে আসেন, তিনি জীবনে তার অফুরন্ত ফল পান।

ব্যাখ্যা: ভক্তদের বিশ্বাস, মন থেকে করা প্রার্থনা বৃথা যায় না। তার মানে এই নয় যে প্রতিটা ইচ্ছে ঠিক আমাদের মনের মতো পূরণ হবে; এ হনুমানজির ওপর ভরসার কথা।

চারোং জুগ পরতাপ তুম্হারা।
হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥

অর্থ: চার যুগেই (সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর আর কলি) তোমার প্রতাপ, আর তোমার যশ জগৎজোড়া, তার আলোয় সারা জগৎ উজ্জ্বল।

ব্যাখ্যা: হনুমানজিকে চিরঞ্জীবী বলা হয়, অর্থাৎ তিনি সব যুগেই আছেন। মহাভারতেও তিনি ভীমের সঙ্গে দেখা করেন আর অর্জুনের রথের পতাকায় বসে থাকেন।

সাধু সন্ত কে তুম রখবারে।
অসুর নিকন্দন রাম দুলারে॥

অর্থ: তুমি সাধু-সন্তদের রক্ষক, অসুরদের বিনাশ করো, আর তুমি শ্রীরামের বড় আদরের।

ব্যাখ্যা: “নিকন্দন” মানে যে শিকড়সুদ্ধ নষ্ট করে। একদিকে ভালো মানুষের রক্ষা, অন্যদিকে মন্দের বিনাশ: হনুমানজির এই দুই রূপ এখানে একসঙ্গে দেখা যায়।

চৌপাই 31 থেকে 40

অষ্ট সিদ্ধি নৌ নিধি কে দাতা।
অস বর দীন জানকী মাতা॥

অর্থ: তুমি আটটি সিদ্ধি আর নয়টি নিধি দিতে পারো; এই বর তোমাকে মা জানকী (সীতা) দিয়েছেন।

ব্যাখ্যা: লোকে বিশ্বাস করে, অশোকবনে হনুমানজির ওপর খুশি হয়ে মা সীতা এই বর দিয়েছিলেন। আটটি সিদ্ধি আর নয়টি নিধি কী কী, তা নিচে প্রশ্নে আছে।

রাম রসায়ন তুম্হরে পাসা।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥

অর্থ: রামভক্তির রসায়ন (নতুন প্রাণ দেওয়া ওষুধ) তোমার কাছে আছে, আর তুমি সবসময় শ্রীরঘুপতির (শ্রীরামের) দাস হয়ে থাকো।

ব্যাখ্যা: এখানে “রসায়ন” মানে নতুন প্রাণ দেওয়া ওষুধ, আজকের রসায়নশাস্ত্র বা কেমিস্ট্রি নয়। রামভক্তিকেই সেই ওষুধ বলা হয়েছে, যা মনের অসুখ সারায়। সবসময় রামের সেবক বলে এই সবচেয়ে বড় সম্পদ হনুমানজির কাছে আছে।

তুম্হরে ভজন রাম কো পাবৈ।
জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥

অর্থ: তোমার ভজনা করে ভক্তরা শ্রীরামকে পান, জন্ম-জন্মান্তরের দুঃখ ভুলে যান।

ব্যাখ্যা: হনুমানজির ভক্তি থেকে রামভক্তি আসে। “বিসরাবৈ” মানে ভুলিয়ে দেওয়া: রামের ভালোবাসা পেলে পুরনো দুঃখ মন থেকে মুছে যায়।

অন্ত কাল রঘুবর পুর জাঈ।
জহাঁ জন্ম হরি-ভক্ত কহাঈ॥

অর্থ: এমন ভক্তরা শেষকালে শ্রীরঘুবরের (শ্রীরামের) ধামে যান, আর আবার যেখানেই জন্মান, হরিভক্ত বলেই পরিচিত হন।

ব্যাখ্যা: অর্থাৎ, সত্যিকারের ভক্তি এই এক জন্মেই শেষ হয়ে যায় না। এমন ভক্তরা পরের জন্মেও ভগবানের ভক্ত হয়েই জন্মান।

ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরঈ।
হনুমত সেই সর্ব সুখ করঈ॥

অর্থ: অন্য দেবতাদের মনে না রাখলেও, শুধু হনুমানজির সেবা করলেই সব সুখ পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা: এর মানে অন্য দেবতাদের ছোট করা নয়। কথাটা শুধু এই যে, হনুমানজির ভক্তি নিজেই সম্পূর্ণ, কারণ তার মধ্যে রামভক্তিও আছে।

সঙ্কট কটৈ মিটৈ সব পীরা।
জো সুমিরৈ হনুমত বলবীরা॥

অর্থ: যাঁরা বলবীর হনুমানকে স্মরণ করেন, তাঁদের সংকট কেটে যায়, সব কষ্ট মিটে যায়।

ব্যাখ্যা: “সুমিরৈ” মানে স্মরণ করা। কঠিন সময়ে হনুমানজিকে স্মরণ করলে মনে সাহস আসে, ভয় কমে; ভক্তরা একেই সংকট কেটে যাওয়া বলে মানেন।

জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসাঈং।
কৃপা করহু গুরু দেব কী নাঈং॥

অর্থ: হে প্রভু (গোসাঈং) হনুমান, তোমার জয় হোক, জয় হোক, জয় হোক। গুরুর মতো আমার ওপর কৃপা করো।

ব্যাখ্যা: তিনবার “জৈ” বলে ভক্ত মন ভরে জয়ধ্বনি দিচ্ছেন। গুরু কোনো শর্ত ছাড়াই শিষ্যকে কৃপা করেন, তার ভুল শুধরে দেন; ভক্তও হনুমানজির কাছে সেই কৃপাই চাইছেন।

জো সত বার পাঠ কর কোঈ।
ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোঈ॥

অর্থ: যাঁরা এটি একশো (সত) বার পাঠ করেন, তাঁরা বন্ধন থেকে মুক্ত হন, মহা সুখ পান।

ব্যাখ্যা: “সত” মানে একশো, আর “বন্দি” মানে এখানে বাঁধন; সাধুরা একে সংসারের বাঁধন থেকে মুক্তি বলে বোঝেন। অনেক ভক্ত কোনো সংকল্প নিয়ে একশো বার পাঠ করেন।

জো যহ পঢ়ৈ হনুমান চলীসা।
হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীসা॥

অর্থ: যাঁরা এই হনুমান চালিশা পড়েন, তাঁরা সিদ্ধি পান; এর সাক্ষী গৌরীশ (শিব)।

ব্যাখ্যা: পাঠ করলে কী পাওয়া যায়, এখানে তা বলা হয়েছে; একে ফলশ্রুতি বলে। ভক্তরা “সিদ্ধি” বলতে মনের জোর আর কাজে সাফল্য, দুটোই বোঝেন। এ শ্রদ্ধার কথা: ফল আসে ভগবানের কৃপা আর নিজের চেষ্টায়।

তুলসীদাস সদা হরি চেরা।
কীজৈ নাথ হৃদয় মহঁ ডেরা॥

অর্থ: তুলসীদাস চিরকাল হরির (শ্রীরামের) দাস। হে নাথ, আমার হৃদয়ে এসে বাস করো।

ব্যাখ্যা: শেষে তুলসীদাস নিজেকে “হরি চেরা” (ভগবানের দাস) বলেন, আর কোনো ধন বা পদ চান না; শুধু চান, হনুমানজি তাঁর হৃদয়ে বাস করুন।

শেষ দোহা

পবনতনয় সঙ্কট হরন, মঙ্গল মূরতি রূপ।
রাম লষন সীতা সহিত, হৃদয় বসহু সুর ভূপ॥

অর্থ: হে পবনপুত্র, তুমি সংকট দূর করো, তুমি মঙ্গলের মূর্তি। হে দেবতাদের রাজা, শ্রীরাম, লক্ষ্মণ আর মা সীতাকে নিয়ে আমার হৃদয়ে বাস করো।

ব্যাখ্যা: শেষ দোহায় ভক্ত হনুমানজিকে একা নয়, গোটা রাম-পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে নিজের হৃদয়ে আসতে ডাকছেন, কারণ যেখানে হনুমানজি, সেখানে শ্রীরামও থাকেন।

জেনে রাখুন: এই পাঠ গীতা প্রেস, গোরখপুরের সংস্করণ অনুযায়ী বাংলা অক্ষরে লেখা, আর প্রতিটি লাইন সেই সংস্করণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। অন্য অনেক বইয়ে কয়েকটা শব্দ একটু অন্যরকম পাবেন, যেমন ঔর-এর জায়গায় ঔ, সঙ্কর-এর জায়গায় শঙ্কর, লষন-এর জায়গায় লখন, সজীবন-এর জায়গায় সংজীবন, চলীসা-র জায়গায় চালীসা। ভক্তরা দুভাবেই পাঠ করেন।

॥ জয়ঘোষ ॥

বোলো ..
॥ সিয়াবর রামচন্দ্র কী জয় ॥
॥ পবনসুত হনুমান কী জয় ॥
॥ উমাপতি মহাদেব কী জয় ॥
॥ বৃন্দাবন কৃষ্ণ চন্দ্র কী জয় ॥
॥ বোলো ভাঈ সব সন্তন কী জয় ॥
॥ ইতি ॥

হনুমান চালিশা বাংলা অনুবাদ PDF

পুরো চালিশা আর প্রতিটি দোহা ও চৌপাইয়ের সহজ বাংলা অর্থ, একসঙ্গে একটা PDF-এ। ফোনে রেখে দিতে পারেন, প্রিন্টও করতে পারেন।

শুধু পাঠের এক পাতার বা দুই পাতার PDF চাইলে হনুমান চালিশা বাংলায় পেজে পাবেন।

প্রশ্ন-উত্তর

চালিশার অর্থ নিয়ে লোকে যা সবচেয়ে বেশি জানতে চান, তার উত্তর এখানে।

হনুমান চালিশার অর্থ কী?
হনুমান চালিশা হনুমানজির স্তুতি; গোস্বামী তুলসীদাস এটি অবধি ভাষায় লিখেছেন। শুরুতে দুটি দোহা, তারপর চল্লিশটি চৌপাইয়ে হনুমানজির গুণ, শক্তি, রামভক্তি আর নানা কাহিনি, শেষে একটি দোহা। সহজ কথায়, এ এক প্রার্থনা: হনুমানজির কাছে বল, বুদ্ধি আর বিদ্যা চাওয়া, আর শ্রীরামকে নিয়ে হৃদয়ে এসে বাস করার মিনতি। প্রতিটি লাইনের অর্থ ওপরে আছে।
“চালিশা” শব্দের মানে কী?
চালিশা মানে চল্লিশটি পদের স্তুতি। হিন্দিতে “চালীস” মানে চল্লিশ। হনুমান চালিশায় চল্লিশটি চৌপাই আছে, তাই এই নাম। 39 নম্বর চৌপাইয়ে শব্দটা লেখা আছে “চলীসা”।
হনুমান চালিশা কোন ভাষায় লেখা?
হনুমান চালিশা অবধি ভাষায় লেখা, সংস্কৃতে নয়। অবধি হিন্দির খুব কাছের ভাষা; তুলসীদাস রামচরিতমানসও এই ভাষাতেই লিখেছেন। এই পেজে সেই অবধি কথাগুলোই বাংলা অক্ষরে আছে, আর প্রতিটির নিচে বাংলায় তার অর্থ।
দোহা আর চৌপাই কাকে বলে?
দোহা হল দুই লাইনের পদ। চৌপাই চার চরণের পদ, তবে লেখা হয় দুই লাইনে। হনুমান চালিশায় চল্লিশটি চৌপাই আর তিনটি দোহা আছে: শুরুতে দুটি, শেষে একটি। সব মিলিয়ে ৮৬ লাইন: চৌপাইয়ের ৮০ আর দোহার ৬।
প্রথম দোহার “শ্রীগুরু” কে?
তুলসীদাস এখানে গুরুর নাম বলেননি। স্বামী হরিহর তাঁর বইয়ে বলেছেন, ইনি তুলসীদাসের নিজের গুরু নরহরিদাস। জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য “শ্রীগুরু” বলতে হনুমানজির গুরু মা সীতাকে বোঝান। অনেক ভক্ত আবার “শ্রীগুরু” বলতে নিজের গুরুকেই বোঝেন। গুরুর কৃপায় মন পরিষ্কার হলে তবেই শ্রীরামের যশ গাওয়া যায়, এই দোহা সে কথাই বলে।
হনুমানের মা-বাবার নাম কী?
হনুমানজির মা অঞ্জনা, বাবা বানররাজ কেশরী। অঞ্জনার ছেলে বলে তাঁকে আঞ্জনেয়ও বলা হয়। দ্বিতীয় চৌপাইয়ে আছে “অঞ্জনি-পুত্র”, আর ষষ্ঠ চৌপাইয়ে “কেসরীনন্দন” (কেশরীর ছেলে)। পবনদেবের ছেলে বলে তাঁকে “পবনসুত” বা পবনপুত্রও বলা হয়।
অষ্টসিদ্ধি আর নবনিধি কী কী?
যোগশাস্ত্রের আটটি সিদ্ধি: অণিমা (খুব ছোট হওয়া), মহিমা (খুব বড় হওয়া), গরিমা (খুব ভারী হওয়া), লঘিমা (খুব হালকা হওয়া), প্রাপ্তি, প্রাকাম্য, ঈশিত্ব আর বশিত্ব। নবনিধি হল কুবেরের নয়টি ধন: পদ্ম, মহাপদ্ম, শঙ্খ, মকর, কচ্ছপ, মুকুন্দ, কুন্দ, নীল আর খর্ব। সব বইয়ে নামগুলো এক রকম নয়। 31 নম্বর চৌপাইয়ের অর্থ দেখুন।
“রাম রসায়ন” মানে কী?
এখানে রসায়ন মানে নতুন প্রাণ দেওয়া ওষুধ, আজকের রসায়ন বা কেমিস্ট্রি নয়। 32 নম্বর চৌপাইয়ে রামভক্তিকেই সেই ওষুধ বলা হয়েছে, যা মনের অসুখ সারায়। হনুমানজি সবসময় শ্রীরামের দাস, তাই এই ওষুধ তাঁর কাছে আছে। কথাটা তুলসীদাসের লেখা হনুমান চালিশারই।
“জুগ সহস্র জোজন” কি সূর্যের দূরত্বের কথা বলে?
18 নম্বর চৌপাই বলে, সূর্য অনেক দূরে থাকলেও ছোট্ট হনুমান তাকে ফল ভেবে গিলতে গিয়েছিলেন। কেউ কেউ হিসেব করেন: জুগ (১২,০০০) × সহস্র (১,০০০) × যোজন (প্রায় ৮ মাইল), মোট প্রায় ৯.৬ কোটি মাইল। সূর্যের আসল দূরত্ব প্রায় ৯.৩ কোটি মাইল (১৫ কোটি কিলোমিটার)। তবে যোজনের মাপ সব পুরনো বইয়ে এক রকম নয়। তাই একে বিজ্ঞানের হিসেব না ভেবে ভক্তির কাহিনি হিসেবেই পড়ুন।
“বজরংবলী” মানে কী?
বজরংবলী এসেছে “বজ্রাঙ্গবলী” থেকে: বজ্র, অঙ্গ আর বলী মিলে, মানে যাঁর শরীর বজ্রের মতো কঠিন আর যিনি মহা বলবান। মুখে মুখে বজ্রাঙ্গ থেকে বজরং হয়েছে। হনুমান চালিশায় শব্দটা আছে তৃতীয় চৌপাইয়ে, “বজরঙ্গী” রূপে: “মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী”।
হনুমান চালিশার অর্থ কি ইংরেজি বা হিন্দিতেও পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ। প্রতিটি লাইনের অর্থ ইংরেজিতে আছে ইংরেজি অর্থের পেজে, আর হিন্দিতে হিন্দি অর্থের পেজে। প্রতিটি শব্দের আলাদা মানে আছে শব্দার্থের পেজে, তবে সেটা ইংরেজিতে।
হনুমান চালিশা বাংলা অনুবাদ PDF পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ। ওপরের PDF অংশ থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন: পুরো চালিশা বাংলা অক্ষরে, প্রতিটি দোহা আর চৌপাইয়ের অর্থ সহ। অর্থ আমাদের লেখা। শুধু পাঠের এক পাতা আর দুই পাতার PDF আছে আমাদের বাংলা পেজে।

Saurabh Satyaram

Runs this site · Jaipur, Rajasthan

I am a Hanuman bhakt from Jaipur, not a pandit or a scholar. I check every verse on this site line by line against the standard printed text, and I write the meanings in simple words, from my own understanding, checked against two published commentaries. If you find a mistake, please tell me on the contact page.
How this site is made

Join Our Devotee Community

Connect with other devotees on Telegram, Facebook and YouTube. Our channels share Hanuman Chalisa content in Hindi and English.